OrdinaryITPostAd

শীতকালে ত্বকের যত্নে গ্লিসারিনের ১০ টি ব্যবহার ও উপকারিতা জানুন

ঠোঁটে গ্লিসারিন দিলে কি হয়?শীতকালে গ্লিসারিন আমরা কম বেশি সকলে ব্যবহার করি কিন্তু গ্লিসারিন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম আমরা অনেকেই জানিনা। কেননা গ্লিসারিন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম না জানলে অনেক সময় নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

শীতকালে ত্বকের যত্নে গ্লিসারিনের ১০ টি ব্যবহার ও উপকারিতা জানুন

এজন্য ত্বক  ভালো রাখতে গ্লিসারিন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানতে হবে। তাই আজকে আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা গ্লিসারিন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম সহ গ্লিসারিনের বিভিন্ন উপকারিতা তুলে ধরেছি। আশা করি পুরো আর্টিকেলটি আপনারা মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

ভূমিকাঃ

শীতকাল এলে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। শুধু ত্বক নয়, চুলে ও দেখা দেয় নানা ধরনের সমস্যা। শীতের হিমেল বাতাস আমাদের মুখ, ঠোট, পা শুষ্ক ও রুক্ষ করে দেয়। তাছাড়া এই শুষ্কতার কারণে আমাদের ত্বকে ব্রণের প্রকোভ বেড়ে যায়।


একমাত্র গ্লিসারিনের পারে এসব সমস্যা থেকে আমাদেরকে নিমেষে মুক্তি দিতে। গ্লিসারিনের আর্দ্রতাকারী উপাদান আমাদের ত্বককে নরম, কোমল ও সতেজ করে তোলে। তাছাড়া গ্লিসারিন আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

গ্লিসারিন কি?

গ্লিসারিন হলো একটি বর্ণহীন,গন্ধহীন এবং সান্দ্র তরল যা প্রাকৃতিক উৎস যেমন উদভিজ উদ্ভিজ্জ তেল বা পশুর চর্বি থেকে প্রাপ্ত এটি এক ধরনের হিউমেক্ট্যান্ট যার অর্থ এটি আর্দ্রতা আকর্ষণ এবং ধরে রাখতে পারে।

গ্লিসারিন মুখে দিলে কি হয়?

গ্লিসারিন একটি হিউমেক্ট্যান্ট, যা ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং শুষ্কতা প্রতিরোধ করে এবং ত্বক উজ্জ্বল করে। তাছাড়া গ্লিসারিন ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে মসৃণ এবং নরম করার পাশাপাশি এর অ্যান্টি- ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণ কমাতেও সহায়তা করে। এটি ত্বকের পোরগুলিকে ক্লজ হতে দেয় না। তাই শীতকালে গ্লিসারিন ত্বকের জন্য খুবই কার্যকর একটি উপাদান।

শীতকালে ত্বকের গ্লিসারিনের ব্যবহারঃ

ঠান্ডা এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বক শুষ্ক রুক্ষ এবং ফেটে যেতে পারে যেতে পারে। গ্লিসারিন ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখতে দারুন কার্যকর। আসুন জেনে নেওয়া যাক শীতকালে ত্বকের যত্নে গ্লিসারিনের নানাবিদ ব্যবহার সম্পর্কে-

  • গ্লিসারিন ত্বককে মশ্চারাইজড করে। আর এর জন্য গ্লিসারিন ও গোলাপজল সমপরিমাণ নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। নিয়মিত তারপর এটি নিয়মিত সকালে ও রাতে ত্বকে লাগাতে হবে। এতে করে আপনার ত্বক গভীরভাবে আর্দ্র রাখবেএবং শুষ্কতা দূর হবে।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে গ্লিসারিন লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। এটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • আপনার তো পরিষ্কার রাখতে গ্লিসারিন একটি কার্যকর উপাদান। মুখে জমে থাকা তেল কিংবা বিভিন্ন ধরনের ময়লা দূর করতে ক্লিনজিং মিল্ক এর পরিবর্তে গ্লিসারিন ব্যবহার করা উত্তম।
  • গোলাপ জলের সঙ্গে গ্লিসারিন মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ঢুকিয়ে ব্যবহার করতে পারেন এটি টোনার হিসেবে কাজ করবে।
  • যাদের পায়ের গোড়ালি ফাটার সমস্যা আছে তারা নিয়মিত রাতে গোড়ালিতে গ্লিসারিন ও ভেসলিন মিক্স করে গোড়ালিতে লাগাতে পারেন এতে করে আপনার গড়ালে সফট হবে এবং পা ফাটা কমতে থাকবে।
  • গ্লিসারিনের যেহেতু কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই সেহেতু ত্বকের প্রদাহজনিত সমস্যা কমাতেও গ্লিসারিনের জুড়ি মেলা ভার। তাছাড়া ত্বকের ছোটখাটো সমস্যা ফুসকুড়ি বা জ্বালাভাব কমাতেও গ্লিসারিন কাজ করে।
  • চিনি,গ্লিসারিন এসেন্সিয়াল অয়েল এবং লেবুর রস মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। তারপর মুখে মেখে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি করার ফলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে কোমল।
  • ২ চা চামচ মধুর সঙ্গে সমপরিমাণ গ্লিসারিন ও ওট্মিল মিশান। ঘন মিশ্রণ তৈরি হলে সারা মুখ ও হাতে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে প্রথমে দুধ ও পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • পানিতে কিছু গ্লিসারিন মিশিয়ে দিনে দুইবার ত্বক পরিষ্কার করুন। এটি ত্বকের পোর পরিষ্কার রাখে এবং ব্রণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর আগে এটি ব্যবহার করলে ঠোঁট ফাটা সারবে এবং ঠোঁট কোমল ও নরম হবে।

কোনটি ভালো গ্লিসারিন?

শীতকালে ত্বকের যত্নে ভালো গ্লিসারিন বেছে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সব ধরনের গ্লিসারিন ত্বকের জন্য ভালো নাও হতে পারে। তাই সাধারণত ত্বকের জন্য উচ্চমানের 100% বিশুদ্ধ এবং উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে তৈরি গ্লিসারিন সবচেয়ে ভালো। কারণ এটি কারণ এটি ত্বকের জন্য নিরাপদ এবং প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক।

গ্লিসারিন দিলে কি ত্বক কালো হয়?

না, গ্লিসারিন ত্বকক কালো করে না। বরং এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। বরং এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বককে করে নরম ও মসৃণ করে। তাছাড়া গ্লিসারিন সাধারণত তার ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য স্বীকৃত এবং প্রায়শই এটি ত্বককে হালকা করার এজেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।

গ্লিসারিনের উপকারিতাঃ

গ্লিসারিনএকটি প্রাকৃতিক আর্দ্রতাকারী, যা ত্বক ও চুলের যত্নে বহুল ব্যবহৃত হয়। এটি ত্বককে নরম মসৃণ ও আর্দ্র রাখে। ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে চুলের পরিচর্যায় গ্লিসারিনের রয়েছে বহুমুখী উপকারিতা। আসুন জেনে নেওয়া যাক গ্লিসারিনের উপকারিতা সমূহ-

ত্বককে আর্দ্র রাখেঃ গ্লিসারিন পরিবেশ থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে ত্বকের গভীরে পৌঁছে দিয়ে শুষ্ক এবং রুক্ষ ত্বক নরম ও মসৃণ করতে সাহায্য করে।

ব্রণ প্রতিরোধে সহায়কঃ গ্লিসারিন ত্বকের ছিদ্র পরিষ্কার রাখে এবং জীবাণুনাশক বৈশিষ্ট্যের কারণে ব্রণ হ্রাস করতে সাহায্য করে।

দাগ-ছোপ কমায়ঃ গ্লিসারিনের নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ব্রণের দাগ এবং অন্যান্য কালো দাগ হালকা হয়ে যায়।

ত্বকের সুরক্ষা স্তর শক্তিশালী করেঃ এটি ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষায় স্তরকে মজবুত করে ক্ষতিকর পরিবেশগত উপাদান থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

ঠোঁটের জন্য উপকারীঃ গ্লিসারিন ঠোঁটের শুষ্কতা ও ফাটাভাব দূর করে এবং ঠোঁটকে মসৃণ রাখে।

চুলের জন্য উপকারীঃ গ্লিসারিন আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং শুষ্ক ও রুক্ষ চুলকে নরম করে। তাছাড়া এটি স্কাল্পের শুষ্কতা এবং খুশকি দূর করতেও সাহায্য করে।

বলিরেখা দেখা কমাতে সাহায্য করেঃ নিয়মিত গ্লিসারিন ব্যবহারে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ে, যা বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্নে গ্লিসারিনের অপকারিতাঃ

গ্লিসারিন ত্বকের জন্য নিরাপদ এবং উপকারী। তবে এর সঠিক ব্যবহার না জানলে এটি অনেক সময় ত্বকের জন্য বা অপকারী হতে পারে। তবে আসুন জেনে নেওয়া যাক গ্লিসারিনের অপকারিতা সম্পর্কে

অতিরিক্ত শুষ্কতা সৃষ্টিঃ গ্লিসারিনআর্দ্রতা ধরে রাখে, তবে যদি ত্বকের আশেপাশের পরিবেশ খুব শুষ্ক হয়, তাহলে এটি ত্বকের গভীর থেকে আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে। এর ফলে আপনার ত্বক আরও বেশি শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

ত্বকে আঠালো ভাবঃ গ্লিসারিন সরাসরি ব্যবহার করলে এটি ত্বকে আঠালো অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে এবং ধুলোবালি সহজে আটকে যেতে পারে।

সূর্যালোকে প্রতিক্রিয়াঃ ব্যবহার করে গ্লিসারিন ব্যবহার করে সরাসরি সূর্যের আলোতে গেলে ত্বক কালচে বা পিগমেন্টেড হতে পারে। এজন্য দিনে ব্যবহার করলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হওয়াঃ ঘন গ্লিসারিন ব্যবহার ত্বকে ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে যা ব্রণ বা ব্ল্যাকহেডের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে।

চোখ বা সংবেদনশীল এলাকায় জ্বালাপোড়াঃ গ্লিসারিন সরাসরি চোখের আশায় বসে লাগালে আশেপাশে লাগালে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হয় হতে পারে।

পরিশেষেঃ

উপরের আর্টিকেলে আমরা গ্লিসারিন ব্যবহারের নিয়ম এবং এর উপকারিতা সহ অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। আশা করি আর্টিকেলটি পরে আপনারা গ্লিসারিনের সঠিক ব্যবহার করবেন এবং আপনাদের ত্বককে, নরম, কোমল ও উজ্জল করে তুলবে।

আর্টিকেলটি পড়ে নিশ্চয়ই আপনারা উপকৃত হয়েছেন আর যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আপনাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করবেন। আর এরকম নতুন নতুন তথ্য নিয়ে কনটেন্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সাফান বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url