ক্যানোলা তেল কি এবং ক্যানোলা তেলের ১০ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা জানুন?
ক্যানোলা তেলের দাম কত? বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের তেল
রয়েছে, কিন্তু আপনারা অনেকেই ক্যানোলা তেল সম্পর্কে জানেন না । এই তেল আসলে কি
এবং এই তেল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী তাও জানেন না।
![]() |
ক্যানোলা তেল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা
আপনাদেরকে জানাতে যাচ্ছি ক্যানোলা তেল কি এবং এই তেল কিভাবে ব্যবহার করতে হয় এবং
এই তেল খেলে কি হয় ইত্যাদি সম্পর্কে।
ভূমিকাঃ
ক্যানোলা তেল অত্যন্ত পুষ্টিগণ সমৃদ্ধ উদ্ভিজ একটি তেল। এই তেলে আমাদের শরীরের
জন্য উপকারী অনেক ধরনের ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে। যা আমাদের শরীরের অনেক
উপকার করে থাকে। বাজারে প্রায় সব ধরনের তেলে এভেলেবেল কিন্তু ক্যানোলা তেল
ততটা পরিচিত নয়।
তাই আমরা এর উপকারিতা সম্পর্কে খুব বেশি জানি না। তবে কেউ কেউ জানে আবার
কেউ কেউ জানেই না। কিন্তু উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই এই তেলের ব্যাপক পরিচিতি
রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন রান্নার কাজে এবং ত্বকের যত্নে এ তেল ব্যবহার করে
থাকে।
ক্যানোলা তেল কি?
ক্যানোলা তেল একটি খাদ্য গ্রেট সংস্করণ যা রেপসিড চাষ থেকে প্রাপ্ত বিশেষ
করে কম অ্যাসিড সামগ্রীর জন্য প্রজনন করা হয়। এটি লো ইরুসিক অ্যাসিড রেপসিড
(LEAR) তেল নামেও পরিচিত। ক্যানোলা তেল একটি উদ্ভিজ্জ তেল, যা মূলত ক্যানোলা
উদ্ভিদের বীজ থেকে তৈরি করা হয়।
এটি হালকা স্বাদের এবং উচ্চ পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত। ক্যানোলা তেলে
ওমেগা - ৩ এবং ওমেগা -৬ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
থাকে, যার হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে।
ক্যানোলা তেলের পুষ্টিগুণঃ
ক্যানোলা তেল অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি ভোজ্য তেল, যা মূলত ক্যানোলা উদ্ভিদের
বীজ থেকে উৎপাদিত হয়ে থাকে। এটি রান্নার জন্য জনপ্রিয়, কারণ এতে স্বাস্থ্যকর
ফ্যাট ও নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এক টেবিল চামচ বা প্রায় ১৪
গ্রাম খাবার উপযোগী ক্যানোলা তেলে পুষ্টিগুণ রয়েছে-
- ক্যালরি = ১২৪ ক্যালরি
- মোট ফ্যাট = ১৪ গ্রাম
- স্যাচুরেটেড ফ্যাট = ১ গ্রাম
- মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট = ৮ গ্রাম
- পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট = ৪ গ্রাম
- ওমেগা-৩ফ্যাটি অ্যাসিড = ১.২ গ্রাম
- ওমেগা-৬ফ্যাটি অ্যাসিড = ২.৬ গ্রাম
- কোলেস্টরল = ০ মিগ্রাম
- ভিটামিন ই = ২.৪ মিগ্রাম (প্রায় ১৬% দৈনিক চাহিদা)
- ভিটামিন কে = ৮. ৬ মাইক্রোগ্রাম
কেননা তেলের ব্যবহারঃ
ক্যানোলা তেল সরিষা পরিবারের শালগম এবং বাঁধাকপির একটি আত্মীয়, রেপসিড
(ব্রাসিকা ন্যাপাসজাত, ন্যাপাস) এর চাপা বীজ থেকে তৈরি উদ্ভিজ্জ তেল। এই তেল
কানাডা ছাড়াও ব্রিটেন চীন এবং পাকিস্তান সহ আরো অন্যান্য দেশে উৎপাদিত হয়।
ক্যানোলা তেল স্বাস্থ্যকর হালকা গন্ধযুক্ত এবং বহুমুখী কাজে ব্যবহৃত হয়। যা
বিভিন্ন ধরনের রান্না, সালাদ ও ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা হয়। আসুন যেন না যাক
কেননা তেলের বিভিন্ন ব্যবহার সম্পর্কে-
- ক্যানোলা তেলের ধোয়া বিন্দু বেশি, তাই এটি উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজা ও গ্রিল করার জন্য উপযুক্ত।
- এটি হালকা স্বাদের হওয়ায় সব ধরনের রান্নার জন্য ভালো, যেমন তরকারি, পাস্তা,সস ইত্যাদি।
- কেক, বিস্কুট এবং অন্যান্য বেক করা খাবারে মাখনের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- অলিভ অয়েল এর মত এটি সালাদ ড্রেসিং ও মেরিনেট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- ভিটামিন ই সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে।
- যাদের চুল রুক্ষ এবং উজ্জ্বলতা কম তাদের চুলের রুক্ষতা কমাতে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে এই তেল।
- এই তেল হালকা ও নন- গ্রিসি এটি ম্যাসেজের জন্য ভালো।
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনে ও সাবধানে এই তেল ব্যবহার করা হয়।
- পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে ক্যানোলা তেল ব্যবহার করা হয়।
ক্যানোলা তেলের উপকারিতাঃ
ক্যানোলা তেল একটি উপকারী তেল। এটি এটি আমাদের রান্নায়। স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং
সৌন্দর্য চর্চায় অনেক উপকার করে থাকে। তবে জেনে নেওয়া যাক ক্যানোলা তেলের
উপকারিতা সমূহ-
কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করেঃ এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম ও
মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি, যা খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল
বাড়াতে সাহায্য করে।
হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখেঃ এতে থাকা ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ফ্যাটি অ্যাসিড
হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা
করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেঃ এটি শরীরের জন্য উপকারী ফ্যাট সরবরাহ করে
এবং বেশি ক্যালোরি গ্রহণ না করেই শক্তি যোগায়। তাছাড়া ক্যানোলা তেলের ফ্যাটি
অ্যাসিড বিপাক ক্রিয়া উন্নত করে, যা ওজন কমাতে সহায়তা করে।
প্রদাহ কমাতে উপকারীঃ এই তেলে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ জনিত সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করেঃ ক্যানোলা তেল গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে
সাহায্য করতে পারে, যা ডায়বেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
ত্বক মশ্চারাইজড করেঃ এইটেলে থাকা ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
চুলের বৃদ্ধিতে সহায়কঃ ক্যানোলা তেল চুলের শুষ্কতা দূর করে খুশকি কমায়
এবং চুল মজবুত রাখে।
প্রাকৃতিক এন্টি এজিং গুনঃ এটি ত্বকের বলিরেখা ও বয়সের ছাপ কমাতে
সাহায্য করে।
হাড় মজবুত করেঃ এতে থাকা ভিটামিন কে হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।
ক্যানোলা তেলের অপকারিতাঃ
ক্যানোলা তেলের উপকারিতা অনেকগুলো তারপরেও এর বেশ কিছু অপকারিতাও রয়েছে।
নিম্নে সেই অপকারিতা সমূহ দেওয়া হলঃ
- ক্যানোলা তেলের অতিরিক্ত ব্যবহার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই যথাসম্ভব স্বল্প পরিমাণে এই তেল ব্যবহার করতে হবে।
- কিছু গবেষণা অনুসারে, ক্যানোলা তেল মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে। এছাড়াও মস্তিষ্ককে দুর্বল করে তোলে, স্মৃতিশক্তি হ্রাস করে।
- এই তেল কিডনি এবং লিভারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারন এই তেলটি বায়োটেকনোলজি প্রক্রিয়া থেকে তৈরি করা হয়। তাই কিডনি এবং লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- কিছু মানুষের জন্য এটি হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বিশেষ করে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য এই তেল বদহজম, গেস্ট্রিক বা ফোলাভাবের কারণ হতে পারে
- যদিও বিরল, তবুও কিছু মানুষ ক্যানোলা তেলে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া (যেমন চুলকানি ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্ট) অনুভব করতে পারেন।
- ক্যানোলা তেল কম স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত হলেও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে ব্যবহার করলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।
পরিশেষেঃ
নিশ্চয়ই এতক্ষণ আপনারা উপরের আর্টিকেল পড়ার পর জানতে পেরেছেন ক্যানোলা তেল
আসলে কি এবং এই তেলের উপকারিতা কত বেশি এবং পুষ্টিগুনও কত বেশি। এটি আমাদের
শরীর, ত্বক এবং চুলের জন্য কতটা উপকারী তাও জানতে পেরেছে। তারপরও এর কিছু
অপকারিতা রয়েছে।
কথায় আছে যে জিনিসের উপকারিতা বেশি সে জিনিসের আবার অপকারিতাও রয়েছে। আর এজন্য
কখনোই আমরা অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যানোলা তেল ব্যবহার করব না। তাছাড়া এই তেল
ব্যবহারের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন বিশেষ করে ত্বকের
ক্ষেত্রে।
আজ এ পর্যন্তই যদি আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে উপকারী মনে হয় এবং সত্যিই ভালো
লেগে থাকে তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন।
সাফান বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url